শীতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায়
শীতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায়-ঘরোয়া যত্নে থাকুন সুস্থ
ভাবুন তো, সকাল বেলা গরম চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন, কিন্তু গলা ফেটে যাচ্ছে
কাশিতে-এই বিরক্তি কর সমস্যার ঘরে ই আছে এমন কিছু সহজ উপায়, যা আপনাকে পুরো
সিদ্ধ জুড়ে রাখবে ঠান্ডা-কাশি মুক্ত?
শীতকাল আমাদের দেশের এক অন্যতম প্রিয় ঋতু। তবে এই সুন্দর শীতের হাওয়ায় অনেক
সময় লুকিয়ে থাকে নানা রকম রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকি। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগা,
গলা ব্যথা্ কাশি নাক বন্ধ, জ্বর ইত্যাদি সমস্যা প্রায় ঘরে ঘরে দেখা যায়।
তাই আজ আমরা জানবো শীতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায় যা অনুসরণ করলে আপনিও
আপনার পরিবার পুরো শীতকালটা থাকতে পারবেন একদম সুস্থ ও সতেজ।
আরো জানতে চাইলেঃনিম পাতার ১০টি অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা – যা জানলে অবাক হবেন
কেন শীতে ঠান্ডা ও কাশি বেশি হয়?
শীতের সময় বাতাসের আদ্রতা কমে যায় এবং ঠান্ডা বাতাস শ্বাস-প্রশ্বাসের পথকে
শুষ্ক করে তোলে। ফলে ভাইরাস সহজে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও আমরা শীতে ঘরের দরজা
জানালা বন্ধ রাখে ফলে বাতাস চলাচল কম হয় এবং সংক্রম দ্রুত ছড়াই। তাই শীতে
ঠান্ডা ও কাশি প্রতিরোধের উপায় জানা খুবই জরুরী।
প্রেজ সূচিপত্রঃ শীতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায়
- গরম পানি পান করুন
- ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ খাবার খান
- আদা রসুন ও মধু ব্যবহার করুন
- হারবাল চা পান করুন
- গরম পোশাক পড়ুন
- ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখুন
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- গরম পানিতে স্নান করুন
- কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন
- কিছু বিশেষ টিপস
- লেখকের শেষ কথা
গরম পানি পান করুন
গরম পানি শরীরের ভেতরে শুষ্কতা কমায় এবং গলা ব্যথা ও কাশি থেকে আরাম দেয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই একগ্লাস হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস করুন। এটি
শরীরের টক্সিন দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
লেবু, কমলা, পেয়ারা, আনারস ইত্যাদি ফল শীতকালে সহজলভ্য এবং রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে ভাইরাস
সংক্রমণ অনেকটা কমে যায়। অনেকেই জানেন না শীতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায়
হিসেবে ফলমূল খাওয়া সবচাইতে প্রাকৃতিক পদ্ধতি।
আদা রসুন ও মধু ব্যবহার করুন
আদা ও রসুনের মধ্যে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ঠান্ডাও কাশি প্রতিরোধে
দারুন কাজ করে। আদা রসুন মিশ্রণ গলা পরিষ্কার রাখে। সকালে এক চা চামচ আদা ও
রসুন মধু খেলে কাশি কমে। শীতের ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায় হিসেবে
ঘরোয়া এই রেসিপিটি খুব জনপ্রিয়।
হারবাল চা পান করুন
তুলসী পাতা-আদা-গোলমরিচ ও দারচিনি দিয়ে তৈরি হার্বাল চা শরীর গরম রাখে এবং
শ্বাসযন্ত্র পরিস্কার করে। দিনে একবার দুই কাপ হারবাল চা পান করা যেতে পারে।
অনেক ডাক্তার ও বলেন শীতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায় হিসেবে হারবাল চা খুব
কার্যকর।
গরম পোশাক পড়ুন
ঠান্ডা থেকে বাঁচতে সব সময় গরম পোশাক পরা জরুরি। বিশেষ করে সকালে ও রাতে বাইরে
বের হলে মাথা গলা পা ঢেকে রাখুন। অনেকেই পোশাকের দিকে অবহেলা করেন অথচ শীতে
ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায় হিসেবে এটি সবচেয়ে সহজ উপাই।
ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখুন
বদ্ধ ঘরে ঠান্ডাও ভাইরাস বেশি জমে তাই দিনে অন্তত একবার ঘরের জানালা খুলে দিন
যাতে তাজা বাতাস ঢুকতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন শীতে ঠান্ডা কাশি
প্রতিরোধের উপায় হিসেবে ঘরের বাতাস চলাচল রাখা ক্লান্ত জরুরি।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
অনেকেই শীতের পানি কম পান করেন যা শরীরের পানি শূন্যতা তৈরি করে। পর্যাপ্ত পানি
পান করলে গলা ও শ্বাসনালী আর্দ্র থাকে এবং কাশি হওয়ার সম্ভাবনা কমে। শীতে
ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায় হিসেবে প্রতিদিন হই।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
ঘুম কম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত ৭
থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন মানসিক শান্তি ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও
শীতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায় হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
শীতকালে অনেকেই অলস হয়ে পড়েন কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর উষ্ণ থাকে
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। সকালে হালকা হাঁটা বা যোগব্যায়াম শীতে ঠান্ডা কাশি
গোত্রেদের উপায় হিসেবে খুবই কার্যকর।
গরম পানিতে স্নান করুন
গরম পানিতে গোসল শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। তবে
খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার না করাই ভালো। প্রতিদিন পরিমিত গরম পানিতে স্নান করা
হিতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায় এর একটি হংস না অংশ ।
আরো পড়নঃ উপজেলা ভিত্তিক আইটি ট্রেনিং সেন্টার লোকেশন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন
যদি কাশি সাতদিনের বেশি স্থায়ী হয় জ্বর আসে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাহলে
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। অনেক সময় ভাইরাসের পাশাপাশি
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রামন ও হতে পারে।
কিছু বিশেষ টিপস
- ধূমপান ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন।
- শিশুরা ঠান্ডা মেঝেতে যেন না বসে।
- খাবারের আগেও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাস করো।
- ঠান্ডা পানি ও বরফ জাট খাবার এড়িয়ে চলে।
- রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করতে পারেন।
সব মিলে বলা যায় এই সহজ ও প্রাকৃতিক শীতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায় গুলো মেনে চললে পুরো পরিবার থাকবে সুস্থ ও আনন্দে।
লেখকের শেষ কথা
শীতের মৌসুম যেমন আরামদায়ক ক তেমনি এই সময়ে রোগের ঝুঁকিও বেশি। তাই এখন থেকে যত্ন নিন শরীর গরম রাখুন ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং প্রাকৃতিক খাবারের দিকে ঝুকুন। সুস্থ থাকা কোন কঠিন কাজ নয় শুধু সচেতন হলেই সম্ভব। মনে রাখবেন শীতে ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধের উপায়ে জানা মানেই পুরো মৌসুমে নিজেকে ও প্রিয়জনদের রক্ষা করা।
